ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘মালিকের নেশার জিনিসও বানায় দেওন লাগতো’


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২৪ এএম, ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার | আপডেট: ০৪:৪২ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
‘মালিকের নেশার জিনিসও বানায় দেওন লাগতো’

অনেক আশা নিয়ে গৃহকর্মীর কাজে সরকারিভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের আনোয়ারা ( নির্যাতিতার অনুরোধে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হলো)।  সোমবার রাতে আরো ৪১ জন নারী শ্রমিকের সঙ্গে তিনি দেশে ফিরে জানালেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

আনোয়ারা ২০ হাজার টাকা দিয়ে দালাল খালেককে দিয়ে এমপি ট্রাভেলস রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সৌদি আরব যেতে নারী গৃহকর্মীদের কোনো টাকা লাগে না। টাকার কাছে জিম্মি হয়েই নয় মাস আগে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার আগে আরো দুজন খাদ্দামা (গৃহকর্মী) সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন। নয় মাস সেখানে কাজ করেছেন নানা ধরনের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে।

আনোয়ারা বলেন, ‘ঘরের কাজ তো মাইরা করাইতো, আবার মালিকের গাঞ্জা বানায় দিতে হইতো। সেখান থেকে অ্যামবেসি আসার আগে সাত দিন আমি অজ্ঞান হইয়া পইড়া ছিলাম। আমি মইরা গেসি ভাইবা মালিক পুলিশ ডাইকা নিয়া আসছে। পরে পুলিশ আমারে সেখান থেকে নিয়া অ্যামবেসিতে দিয়ে দিসে। আমি যদি অজ্ঞান হইয়া না পইড়া থাকতাম আমি লাশ হইয়াই দেশে ফিরতাম।’ তিনি বলেন, আমার পাসপোর্ট, কাগজপত্র সব কফিলের কাছে। কিচ্ছু দেয় নাই, নয় মাস কাজ কইরা তিন মাসের বেতন পাই নাই।

একই ফ্লাইটে দীর্ঘ ১৫ মাস কাজ করার পর দেশে ফিরেছেন পারু বেগম। দেশে ফিরে জানালেন তিক্ত অভিজ্ঞতা। তার বাম হাত ভেঙে দিয়েছে নিয়োগকর্তা। এক হাজার রিয়াল বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও দিতো ৮০০ রিয়াল। তিনিও সরকারিভাবে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তার জনশক্তি স্মার্ট কার্ডও মালিক রেখে দিয়েছে বলে জানান।

পারু বলেন, ‘মালিক আমার তিন মাসের বেতন দেয় নাই। বেতন চাওয়ায় আমার বাম হাত ভাইঙা দিছে। কফিলের বাসা থেকে পালাইয়া অ্যামবেসিতে আশ্রয় নিসিলাম। অ্যামবেসি থেকে আমাকে বলছিল যে টাকা উসুল করে দেবে, কিন্তু সময় লাগবে। তত দিন থাকতে হবে এখানে, যাইতে লেট হবে। আমি বলসি আমার টাকা লাগবো না, আমি দেশে ফেরত যামু। এরপর আমারে সফর জেলে রাখে দুই সপ্তাহ, তারপর আজকে দেশে পাঠায় দিছে।’

গরিবি থেকে মুক্তি পেতে সৌদি আরবে পাড়ি দেন ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব নারী। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সৌদি আরবের পাশাপাশি যান সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবাননসহ ১৮টি দেশে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালে এমন অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন, যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক যায় সৌদি আরবে। আবার নানা কারণে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নারী ফেরত আসেন। তবে কোনো সংস্থা কিংবা মন্ত্রণালয়, কারো কাছে এই ফেরত আসা শ্রমিকের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই।

অমৃতবাজার/জয়