ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:৪১ এএম, ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার | আপডেট: ০৭:৪২ এএম, ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার
আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

অর্ধ শতাব্দী আগে পরিবার পরিকল্পনা মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে এখনও এ মানবাধিকার সর্বস্তরে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকর’। দিবসটি উপলক্ষে জনসংখ্যা ও উন্নয়নবিষয়ক বক্তৃতা, র‌্যালি, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে এখনও ৫৯ ভাগ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হয়। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর মধ্যে ৩১ ভাগ প্রথম বা দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হন। এই বয়সী কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৪৭ শতাংশ। আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের হার ৫৪ দশমিক ১ ভাগ এবং ড্রপ আউটের হার ৩০ শতাংশ। এখনও ৬২ ভাগ নারীর সন্তান প্রসব হয় বাড়িতে।

জানা গেছে, দেশে এখনও পরিবার থেকে কন্যাশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি বিয়ের পর সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকাও থাকে না। ফলে বাল্যবিয়ে, শিশু বিবাহ, সন্তান গ্রহণ, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার  বলেন, সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত একটি মানবাধিকার। প্রতিটি পরিবার পরিকল্পিত হোক। সব দম্পতি যেন স্বাধীনভাবে সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাদের ওপর যেন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে- ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকর’।

১৯৯৪ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের ধারা ৮-এ বলা হয়, সন্তান সংখ্যা, দুই সন্তানের মাঝে বিরতি দেয়ার বিষয়টি ব্যক্তির অধিকার।

এ প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম ইউনিটের উপপরিচালক জাকিয়া আখতার বলেন, পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণের সুযোগ নারীদের পছন্দমতো সন্তান গ্রহণের সুযোগ করে দেয়, যা নারী ও নবজাতক উভয়ের কল্যাণ বয়ে আনে। পাশাপাশি মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করে, নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪০ লাখ (১৬৪ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন)। এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৯ কোটি ৪৫ লাখ কর্মক্ষম। যাদের মধ্যে ২৯ ভাগের বয়স ১৫ থেকে ২৪-এর মধ্যে, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৩১ শতংশ।

এ অবস্থা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব। তবে বাল্যবিয়ে, কিশোরীদের গর্ভবতী হওয়া, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের হার বাড়ানো, ড্রপআউট বন্ধ করাসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

অমৃতবাজার/জয়