ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কোটা সংস্কার: নিরাপত্তা চাইলেন আন্দোলনকারী ৩ নেতা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার
কোটা সংস্কার: নিরাপত্তা চাইলেন আন্দোলনকারী ৩ নেতা

কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ফিরে এসে সরকারের কাছে নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

সোমবার দুপুর ৩টার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা এ দাবি জানান। এসময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও নুরুল হক নুর। এছাড়া এই ৩ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা।

সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খান বলেন, আমার আব্বাকে তুলে নেয়া হয়েছে এবং বিশ্রী ভাষায় গালি দিয়েছে পুলিশ। তাকে জোর করে এটা বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, তার ছেলে (আমি) জামাত-শিবিরের লোক।

তিনি আরো বলেন, আজ আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই বলেই কি আমাকে জামাত-শিবিরের ট্যাগ দেয়া হচ্ছে? আমাকেসহ আমার আত্মীয় স্বজনকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি তাদের ওপর আক্রমণ হতে পারে। সরকারের কাছে আমার আব্বার গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাই। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় আছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি বলেই কি আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-এর যুগ্ম আহবায়ক রাশেদের পিতা নবাই বিশ্বাসকে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চরমুরাড়ীদহ গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে নুরুল হক নুর বলেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে এসে আজ একদিকে আমরা হত্যার হুমকি পাচ্ছি, অন্যদিকে পুলিশও আমাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ আন্দোলনকারীদের দেখতে গেলে অনেক মানুষের সামনে থেকে তুলে নেয়ায় হয়তো আমরা বেঁচে ফিরতে পেরেছি। তবে, সামনে অন্য কোনো জায়গা থেকে তুলে নিয়ে গেলে আমাদের কে বাঁচাবে? গুলিস্তানে নিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। আমরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছি। তারপরও নাটকীয়ভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চোখ খোলার পর দেখি আমরা ডিবি কার্যালয়ে।

তিনি দাবি করেন, পুলিশ তাদের বলেছে, তোমাদের ওপর হামলা হতে পারে তাই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। একটা ভিডিও দেখানোর কথা বললেও, পরে তা আর দেখানো হয়নি। আমি পানি চাইলে এক গ্লাস পানিও দেয়া হয়নি। পরে আমাদেরকে বলে তোমরা চলে যাও, পরে দরকার হলে তোমাদের আবার আসতে হবে।

ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো। তাদের সঙ্গে ছিলো ৭-৮টি মোটর সাইকেল এবং দুটি কালো গ্লাসের গাড়ি। আমাদের কাছে তথ্য চাইলে আমরা তাদের সঙ্গে গিয়ে তথ্য দিয়ে আসতাম। কিন্তু এভাবে চোখ বন্ধ করে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো কেন?

সংবাদ সম্মেলন শেষে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের। যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

অমৃতবাজার/সুজন