ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে ছিলেন খালেদার ব্রিটিশ আইনজীবী


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:৫৩ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে ছিলেন খালেদার ব্রিটিশ আইনজীবী

জিয়া আরফান ট্রাস্টের দূর্নীতি মামলা সহ অন্য মামলায় বি এন পি চ্যায়ারপার্সন বেগম খা‌লেদা জিয়ার মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী‌দের পরামর্শ ও সহ‌যো‌গিতার জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী‌ লর্ড আলেকজান্ডার চার্লস কারলাইলকে নি‌য়োগ দি‌য়ে‌ছে বিএন‌পি। জানা যায়, ইহুদী বংশোদ্ভূত এই আইনজীবী এর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে বাংলাদেশের সমালোচনা করে বিবৃতি ও চিঠি দিয়েছিলেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সাকা চৌধুরীর বিচার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে, এমন কথার উল্লেখ করে সেসময় তিনি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন - যেটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল বুরো’র পেজে ছাপানো রয়েছে। যদিও ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশের মধ্য দিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসিরে আদেশ বহাল রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করে ব্রিটিশ হাউস অব লডর্স বরাবর চিঠিও লিখেছিলেন ব্রিটিশ সর্বদলীয় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংসদীয় গ্রুপের এই ভাইস চেয়ারম্যান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই ট্রাইব্যুনাল প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে মেরুকরণের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এবং এর ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ বিষিয়ে উঠছে।’

সাকা চৌধুরী, মীর কাসেম আলীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতার বিচার ও ফাঁসির বিরোধীতা করেন তিনি। মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল আহ্বান জানিয়েও বিবৃতি দিয়েছিলেন লর্ড কারলাইল। ওই বিবৃতি গত ১ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর জামায়াতের ওয়েবসাইটে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে লেখা সাবেক সৌদি কূটনীতিক ড. আলী আল ঘামদির লেখায়ও লর্ড কারলাইলের প্রসঙ্গ আছে।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লর্ড কারলাইলের চিঠি লেখার তথ্য রয়েছে যেটি ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর জামায়াতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় । একই বছর ৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি ঠেকাতে লর্ড কারলাইলের আহ্বানের তথ্য প্রকাশিত হয় জামায়াতের ওয়েবসাইটে।

২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জামায়াতের বিবৃতিতে আবারও যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি না দিতে কারলাইলের আহ্বান স্থান পায়। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের পক্ষে তদবির করা লর্ড কারলাইলের হতাশা প্রকাশ পায় গত বছর মীর কাসেম আলীর ফাঁসির প্রাক্কালে। ২০১৬ সালের ২২ মার্চ জামায়াতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারগুলোতে আর ন্যায়বিচার, অভিযুক্তের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না!

২০১৭ সালে জামায়াতের পক্ষে বিবৃতি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনামূলক লেখালেখি থেকেও কারলাইলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ঠেকাতে তদবির করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছেও। কামারুজ্জামানসহ জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প নির্ধারণেরও সুপারিশ করেছিলেন তিনি। জানা গেছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের শুরু থেকেই কারলাইল ছিলেন তার ঘোর বিরোধী।

অমৃতবাজার/সবুজ