ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুয়েট প্রভাষক এমরানা কবির


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১২ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৩০ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুয়েট প্রভাষক এমরানা কবির

সোমবার ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয় আর এক দম্পতি হচ্ছে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রকিবুল হাসান ও স্ত্রী এমরানা কবির। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রকিবুল হাসান অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর মাকে এখনো জানানো হয়নি।

মা যাতে জানতে না পারে সেজন্য রকিবুল ইসলামের ঢাকার বাসায় (কাজিপাড়া) ডিশ লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

এরপর বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এতে চার ক্রুসহ ৭১ জন আরোহী ছিলেন। এরমধ্যে কমপক্ষে ৫০ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২১ জন।

এই ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন এই দম্পতি। তারা ছুটি কাটাতে নেপালে যাচ্ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় তারা দু’জনই গুরুতর আহত হন। তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। বিমান দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন রকিবুল হাসান। তার স্ত্রী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) প্রভাষক এমরানা কবির হাসি এখনো আইসিইউতে।

মা-বাবার একমাত্র ছেলে রকিবুল হাসানকে অনেক কষ্টে মানুষ করেছেন মা সেলিনা আখতার ঝর্ণা। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রকিবুল সারাক্ষণ মাকে আগলে রাখতেন। চাকরীর কারণে রকিবুল মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন । আর স্ত্রী এমরানা কবির হাসি থাকতেন রাজশাহীতে।

রকিবুলের মৃত্যু সংবাদ মাকে কিভাবে জানাবেন স্বজনরা। একমাত্র ছেলে হারানোর সংবাদে কি হবে মায়ের অবস্থা? এই দু:শ্চিন্তা থেকে মঙ্গলবারও তার মাকে জানানো হয়নি প্রাণপ্রিয় ছেলের মৃত্যু সংবাদ। বাসার ডিশ সংযোগ সোমবার থেকেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে যাতে রকিবুলের মা টিভি দেখে খবরটি জেনে না যায়।

এই ব্যাপারে রকিবুলের মামাতো ভাই সানি বলেন, ফুপু স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজকর্ম করছেন। কিছু জানেন না। ছেলের মৃত্যুর খবর যাতে জানতে না পারে সেজন্য বাসার ডিশ লাইন কেটে দেয়া হয়েছে। অন্য স্বজনরা একসঙ্গে হলে উনাকে জানানো হবে।

অমৃতবাজার/সবুজ