ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিমানের ‘ব্ল্যাকবক্স’ উদ্ধার


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৪৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
বিমানের ‘ব্ল্যাকবক্স’ উদ্ধার

নেপালি কর্তৃপক্ষ বলছে, নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্ল্যাকবক্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্লাইট ২১১কে রানওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করতে বলা হলেও পাইলট উত্তর দিক থেকে অবতরণ করে। নেপালি কর্তৃপক্ষের দাবি অস্বীকার করে বলেছে, কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

তবে এই জটলতা খুব তাড়াতাড়িই খুলে যাবে। কেননা বিমানের ‘ব্ল্যাকবক্স’ উদ্ধার করা গেছে। আর এর মাধ্যমেই জানা যাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আসল কারণ।

ব্ল্যাকবক্সটি কী

রং অনেকটা কমলা ধরনের কিন্তু ব্ল্যাকবক্স নামে ডাকা হয়। এর আসল নাম হল- ফ্লাইট রেকর্ডার। যেটি বিমান চলাচলের সর্বশেষ সব তথ্য রেকর্ড করে রাখে। এটি এমন একটি যন্ত্র, যাতে ককপিটের যাবতীয় কথাবার্তা এবং বিমানের কারিগরি তথ্য রেকর্ড করা হয়।

এভিয়েশন বা বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন- ফ্লাইট রেকর্ডার। এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বাক্স, যা পানি, আগুন, চাপ বা যে কোনো তাপমাত্রায় টিকে থাকে। এটি দুটি অংশের সমন্বয়ে আসলে একটি ভয়েস রেকর্ডার। বিমান চলাচলের সময় সব ধরনের তথ্য এটি সংরক্ষণ করে রাখে।

এর মধ্যে দুই ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। একটি হল- ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর। যেটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে।

ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে আরেকটি অংশে ককপিটের ভেতর পাইলটদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা, পাইলটদের সঙ্গে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিটের সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমানবন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে। ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই ব্ল্যাকবক্সটি খুঁজে বের করাই হয়ে পড়ে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয়। এটি সমুদ্রের তলদেশেও ৩০ দিন পর্যন্ত ব্ল্যাকবক্স অক্ষত থাকতে পারে।

ব্ল্যাকবক্সের আবিষ্কার

অস্ট্রেলীয় সরকারের এয়ারোনটিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট ডেভিড ওয়ারেন এটি আবিষ্কার করেন। ১৯৬২ সালের ২৩ মার্চ প্রথম অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমানে পরীক্ষামূলকভাবে এটির ব্যবহার করা হয়।

কীভাবে টিকে থাকে ব্ল্যাকবক্স

এটি কয়েকটি লেয়ার দিয়ে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, প্রচণ্ড উত্তাপ, ভাঙচুর, পানি বা প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও সেটি টিকে থাকতে পারে।

স্টেইনলেস স্টিল বা টাইটানিয়ামের খোলস দিয়ে বক্সের আবরণ তৈরি করা হয়। টিকে থাকার পরীক্ষায় পাস করার পরেই ব্ল্যাকবক্সকে বিমানে সংযোজন করা হয়।

ব্ল্যাকবক্স কীভাবে তথ্য পায়

আধুনিক ব্ল্যাকবক্সগুলোয় ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট ডাটা ধারণ করে রাখতে পারে। এর ভেতরে অনেক মেমোরি চিপ পাশাপাশি সাজানো থাকে। এখানে তথ্য সরবরাহ করার জন্য বিমানের বিভিন্ন জায়গায় অনেক সেন্সর লাগানো থাকে। এসব সেন্সর অনবরত বিমানের গতি, তাপমাত্রা, সময়, ভেতর-বাইরের চাপ, উচ্চতা ইত্যাদি বিমানের সামনের দিকে থাকা ফ্লাইট ডাটা অ্যাকুইজিশন ইউনিট নামে একটি অংশে পাঠাতে থাকে। সেখান থেকে সেসব তথ্য চলে যায় ব্ল্যাকবক্সের রেকর্ডারে।

পাইলট, কো-পাইলট, ক্রুদের বসার কাছাকাছি জায়গায় অনেক মাইক্রোফোন বসানো থাকে। সব কথাবার্তা, নড়াচড়া বা সুইচ চাপা ইত্যাদি মাইক্রোফোনে রেকর্ড হতে থাকে। সেগুলো অ্যাসোসিয়েটেড কন্ট্রোল ইউনিট নামে একটি ডিভাইসে পাঠায়। এরপর সেই তথ্য ব্ল্যাকবক্সে জমা হয়।

ব্ল্যাকবক্সে কত তথ্য থাকে

আসলে বিমান চলাচলের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্ল্যাকবক্স তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। মূলত শেষের তথ্য এটিতে জমা থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর আগের তথ্য মুছে যেতে থাকে আর নতুন তথ্য জমা হয়। ফলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ তথ্য এটিতে পাওয়া যায়।

কীভাবে তথ্য উদ্ধার করা হয়

ব্ল্যাকবক্সটি পাওয়ার পরেই বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী, বিমান সংস্থা, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল তৈরি করা হয়। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে তারা ব্ল্যাকবক্স থেকে তথ্য উদ্ধারের কাজটি শুরু করেন।

বক্সের অবস্থার ওপর নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি তথ্য পাওয়া যাবে। সেটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক সময় মাসের পর মাসও তথ্য উদ্ধারে সময় লেগে যায়। কারণ বিশেষজ্ঞদের খেয়াল রাখতে হয়, যাতে তথ্য উদ্ধার করতে গিয়ে কিছু মুছে না যায় বা মেমরি চিপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ব্ল্যাকবক্সের শক্তি

একেকটি ব্ল্যাকবক্সের পাওয়ার বা শক্তির জোগান দেয় দুটি জেনারেটরের যে কোনো একটি। এসব সোর্স থেকে এই বক্সটি অব্যাহতভাবে শক্তির সরবরাহ পেয়ে থাকে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

অমৃতবাজার/সবুজ