ঢাকা, রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত হয়েছে: তোফায়েল


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৪৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত হয়েছে: তোফায়েল

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নয় বছরে দেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিনিত হবে।

তোফায়েল আহমেদ আজ দুপুরে রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার কক্ষে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ৯ বছর’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. শামসুল আলম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে দেশে যে উন্নয়নের গতি বেশি থাকে তা গত দু’বছরে সেটি প্রমাণ হয়েছে। এ সময় বিএনপি-জামায়াতের হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতা ছিল না।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি’র ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে কোন লাভ হয়নি। বিএনপি তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কোন মারামারি ও খুনোখুনি করে নি। কারণ এতে বিএনপিরই বেশি ক্ষতি ছিলো।

বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু ৯৩ দিন অবরোধ করার পর আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ী ফিরে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬-২০০১ সাল মেয়াদে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। আর বর্তমান টানা দু’মেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে কৃষির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে শিল্পায়িত সমাজের দিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। সামাজিক অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে এবং ভারতের চেয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।

তোফায়েল বলেন, দেশের মানুষের গড় আয়ু ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের গড় আয়ুর চেয়ে বেশি। আর শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে কম। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ পৃথিবীর রোল মডেল। কারণ মন্ত্রীসভাসহ দেশের হাইকোর্টের বিচারপতি, সচিব এবং বর্তমান সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ২০ শতাংশ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো দূরদর্শী নেতা। বঙ্গবন্ধু যেমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাই করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্বদান করছেন উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্টোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, রূপপুর পারমানিবক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী ও রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প, কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। রীটের প্রেক্ষিতে আদালত এ নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আর বিএনপি এটাকেও রাজনৈতিক বলে বক্তব্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায় তাদের আদালতের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই। তারা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রনাথ কুমার সিনহার পক্ষ নিয়েছিল। তারা ভেবেছিল দেশে কি একটা হয়ে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত করলো হাইকোর্ট, আর এতে সরকার কিভাবে সুযোগ নিল তা আমাদের বোধগম্য নয়। আর বিএনপির বক্তব্যের জবাব দেওয়া ভদ্রলোকের কাজ নয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা আইন মানি। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিচার আইনগতভাবে যা হবার হবে।

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষনের সিপিডির প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি আর সিপিডির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির যে কথা বলার কথাই সিপিডি সে কথা বলছে। বিএনপির বক্তব্য আর সিপিডির বক্তব্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড. আবুল বারাকাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ। এ জন্য হার্ড অবকাঠামোর পাশাপাশি সফট অবকাঠামোর প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎখাত সহ দৃশ্যমান অবকাঠামোকে তিনি হাড এবং জ্ঞাণ, বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তিকে তিনি সফট অবকাঠামো হিসেবে অভিহিত করেন।

এইচ টি ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কথাই শুধু জনগনের সামনে তুলে ধরলে হবে না। বিএনপি-জামায়াতের সময় যে অবস্থা ছিল তার তুলনা মূলক চিত্রও তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত ২০১৪-১৫ সালে দেশে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছিল আগামী নির্বাচনের সামনে আর সে পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে। বাসস।

অমৃতবাজার/মিঠু