ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সরকার অতীতের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নে এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | আপডেট: ০৯:০৮ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার
সরকার অতীতের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নে এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, বর্তমান সরকার অতীতের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না, তবে এটা ভুলে গেলেও আমাদের চলবে না। তিনি  শুক্রবার  সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, কাজেই পেছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই এবং আশা করছি বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে সকল বাধা অপসারণের দায়িত্ব নেবে। তিনি ১০ বছর আগে দেশটির অবস্থান কি ছিল তা স্মরণ করেই আগামীতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান। সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আস্থা অর্জন করছে।

সরকার প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনের অধীনে দু’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠুও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা দেবে। দেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা নির্বাচন বানচালের কোন পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাশত করবে না। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুষম, সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দল এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে সন্মান দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দৃঢ় সংকল্প পুণর্ব্যক্ত করেন। আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুধু বসে থাকতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এখন আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই।

তিনি  আরও বলেন, আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক! প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় একযোগে কাজ করে যাবার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অমৃতবাজার/ইকরামুল