ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ৩ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি’র সুদৃঢ় অবস্থান চাইলেন রাষ্ট্রপতি


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার
জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি’র সুদৃঢ় অবস্থান চাইলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, "জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।" জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত জবাবের সিদ্ধান্ত নিতে আজ বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তম সংগঠন ওআইসির একটি জরুরি সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)’র এ ৬ষ্ঠ বিশেষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বৈরী পদক্ষেপে ওআইসি দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের অবশ্যই আল কুদস (জেরুজালেম) বিষয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত ওআইসির বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে নিবিষ্ঠভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, `এই জরুরি সম্মেলন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই জোরালো বার্তা পৌঁছে দেবে যে, আমরা ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের লড়াইয়ে তাদের পেছনে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ এবং আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সমর্থন ও শক্তি যোগাবো।` ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মুসলিম দেশগুলোকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত বলে মন্তব্য করার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। এর এক সপ্তাহ পর ইস্তাম্বুল কংগ্রেস এন্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ওআইসির এ বিশেষ সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি মুসলিম দেশের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান ও মন্ত্রীগণ যোগ দেন।

বাংলাদেশ ও এর জনগণ জেরুজালেমকে ইসরাইলের কথিত রাজধানী হিসেবে মার্কিন ঘোষণার বিপক্ষে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল এবং ন্যায় ও সুবিচারের প্রহসনের সম্মুখীন ফিলিস্তিনিদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সত্যিকার গঠনমূলক ও আশাব্যাঞ্জক ভূমিকা আহ্বানের মধ্যদিয়ে মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সামিল হয়েছেন।

বাংলাদেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবন এবং এ সংকট সমাধানে একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আওতায় একটি গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৬ ডিসেম্বর তারিখে মার্কিন ঘোষণা এবং তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর প্রক্রিয়া মুসলিম অনুভূতিকে আহত করেছে এবং ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এছাড়া এটি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্যও বিরাট হুমকির সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, `এই সিদ্ধান্ত আরব-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়ার সৎ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মক হ্রাস করেছে।` রাষ্ট্রপতি একইসঙ্গে ইসরাইলের গৃহীত নীতি-কৌশল ও পদক্ষেপসমূহ বন্ধ বাতিলের জন্য ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে ওআইসির তাৎক্ষণিক ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা কামনা করেন। খবর-বাসস।

অমৃতবাজার/সাজিদ

Loading...