ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যা-ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্ত নদী দিয়ে আসা উজানি ঢল নামছে। এই থেকে আবারও বন্যার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে জমিসহ এলাকার রাস্তাঘাট। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ফের বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

বন্যার কারণে উপজেলার দুটি পাথর কোয়ারি বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই কোয়ারিতে কর্মরত লক্ষাধিক পাথর শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এসব দিনমজুর পাথর শ্রমিকদের চোখে-মুখে এখন অনিশ্চয়তা। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ফলে দ্বীপচর ও নদ-নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে চর, দ্বীপচর ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজীবপুরের চরাঞ্চলের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে দ্বিতীয় দফা পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এদিকে হেমেরকুঠি, জগমোহনের চর, চর জয়কুমরসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

নীলফামারীতে টানা বর্ষণে তিস্তা, বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, ধাইজান, ইছামতী, বুড়িখোড়াসহ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জলাবদ্ধতায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপত্সীমার চার সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ফের বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার দুটি পাথর কোয়ারির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। গত তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হতে শুরু করে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব ও পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন, আলীরগাঁও, ডৌবাড়ী, লেংগুড়া, রুস্তমপুর তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামের বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারসহ তিনটি সীমান্ত উপজেলার জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ছাড়া হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা আমনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। জেলার অভ্যন্তরে প্রবাহিত ছয়টি সীমান্ত নদী দিয়ে ভারতের উজান থেকে ঢল নামছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক আনোয়ারপুর বাজার থেকে তাহিরপুর পর্যন্ত ডুবে গেছে। আনোয়ারপুর-ফতেপুর সড়ক ভেঙে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর-শরিফগঞ্জ সড়কও ভেঙে গেছে। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে জমিসহ এলাকার রাস্তাঘাট। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে অস্বাভাবিকভাবে পানি এলে এসব তলিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থলবন্দর এলাকার পাশ দিয়ে যে খালটি গেছে সেটি দিয়ে ভারতীয় ঢলের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আব্দুল্লাহপুর ও বঙ্গেরচর গ্রামের জমি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অমৃতবাজার/অনির্বান

এ সম্পর্কিত আরও খবর...
Loading...